ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংশোধন নয়, জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে - অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-২৯ ২২:৫৬:৫৮
সংশোধন নয়, জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে - অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি সংশোধন নয়, জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে - অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি
নিজস্ব প্রতিবেদক


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, সংশোধনের জন্য নয় জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, যারা গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মানতে পারে না। গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সরকার মেজরিটি জনগণকে অসম্মান করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ৫১ শতাংশ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করার দাবি করে কিন্তু প্রায় ৭১ শতাংশ জনগণ সংবিধান সংষ্কারের পক্ষে গণভোটে রায় দিয়েছে সেটি বিএনপি মেনে নিচ্ছে না। গণভোটের রায় যতদিন বাস্তবায়ন না হবে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সংসদে এবং সংসদের বাইরে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। জনগণের দাবি আদায় না করে জামায়াতে ইসলামী সরে যেতে পারে না।



জামায়াতে ইসলামী শহীদদের রক্তের সাথে কাউকে বেঈমানি করতে দেবে না। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান উত্তর কাঙ্খিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের করণীয়”-শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার হলে শিক্ষা ব্যবস্থাও সংস্কার হবে। জ্ঞান ও চরিত্র একই বৃত্তে অঙ্কিত। এই দুইয়ের সমন্বয়ে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার আলোকে একটি শিক্ষানীতি প্রস্তুত করতে হবে। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। সরকারি চাকুরিতে কোটা প্রথা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের গণহত্যার প্রতিবাদে ছাত্র সমাজ উই ওয়ান্ট জাসিস্ট (আমরা ন্যায় বিচার চাই) স্লোগানে রাষ্ট্র সংস্কারে দাবিতে সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যায়। ছাত্রদের সাথে যুক্ত হয় এদেশের সকল শ্রেণীপেশার লোকজন। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে চব্বিশের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে যায়। শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতার মসনদে গিয়ে বিএনপি আবারও সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। আগে নানান রকম কোটা থাকলেও এখন শুধুমাত্র দলীয় কোটায় নিয়োগ ও পদায়ন দেওয়া হচ্ছে।



নির্বাচনের আগে বিএনপি সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগান দিলেও ক্ষমতায় বসার পর “সবার আগে বাংলাদেশের পরিবর্তে সবার আগে বিএনপি” নীতিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বিএনপির যেসব প্রার্থীদের জনগণ এমপি নির্বাচিত করেনি, বিএনপি ক্ষমতায় বসে সেসব প্রার্থীদের কাউকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, কাউকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। দলীয় বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে আবারও মেধার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে না এনে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে তিনি আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি যথাক্রমে প্রফেসর ড. ইলিয়াস হোসেন মোল্লা এমপি বলেন, যার যার ধর্মের আলোকে নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমাদের গোলামী বাদ দিয়ে আল্লাহর গোলামী ও আনুগত্য করতে হবে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকারি দল ৩১ দফা জাতির সামনে উপস্থাপন করে জাতির সাথে যেই প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার করেছে সেই প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার থেকে সরকারি দল সরে যাচ্ছে। ৩১ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কার। কিন্তু ক্ষমতা গিয়ে বিএনপি সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন করতে চাচ্ছে। জনগণের সাথে যেই ওয়াদা-অঙ্গীকার বিএনপি করেছে সেই ওয়াদা-অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে তিনি আহ্বান জানান। মুফতি আলী হাসান ওসামা বলেন, ভাষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। বাংলা, ইংরেজির মতো আরবি ভাষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দক্ষতার সাক্ষর রাখতে পারবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ না থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উত্তর কাঙ্খিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের করণীয় হচ্ছে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দলীয় রাজনীতির প্রভাব শিক্ষাঙ্গানে বিস্তার করার কারণে অনেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবন নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। শহর ও গ্রামে শিক্ষার সুযোগ সুবিধা সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।


পাশাপাশি জেনারেলমাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূরীকরণ করতে হবে। বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জামাল হোসেন। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, জেন-জি যেই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতরি সামনে উপস্থাপন করেছে সেই স্বপ্নে বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি ও এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের চাকুরিকে জাতীয়করণ করতে হবে। জাতীয়করণের মাধ্যমে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের এমপিওভূক্ত শিক্ষকেরদ বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে।



স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সংশোধিত আরপিওতেএমপিওভূক্ত শিক্ষককেরা নির্বাচন করতে পারবে না বলে যেই বিধান করা হয়েছে সেই বিধান বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু অনেক জাতীয় সংসদ সদস্য আছেন যারা এমপিওভূক্ত শিক্ষক ছিলেন। একজন এমপিওভূক্ত শিক্ষক এমপি হতে পারবে কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে পারবে না! এই বৈষম্য শিক্ষক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ